সমস্যাঃ আমার মেয়ের বয়স সাড়ে চার বছর। ৮-১০ দিন হলো ওর বেশ ঠান্ডা লেগেছে। সর্দি-কাশি হয়েছে বেশ। শরীরে জ্বর নেই। খাওয়া-দাওয়া করছে মোটামুটি ঠিকমতোই। যদিও খাওয়ানোর সময় মাঝেমধ্যে কাশি আসলে সামান্য বমি করে মুখের খাবার ফেলে দিতে চায়। কিছুক্ষণ খাওয়ানো বন্ধ রাখলে আবার ঠিক হয়ে যায়। গত বছরও শীতের সময় ওর ঠান্ডা লেগেছিল। সেবার এক সপ্তাহের মধ্যেই সে পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। তবে এবার একটু বেশি সময় ধরেই সর্দি-কার্শি লেগে আছে। শিশুবিশেষজ্ঞের দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিকে তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি আমরা। উল্লেখ্য, এ বছর শীতে এই প্রথম ঠান্ডা লাগল।
ফজলুল আবেদীন, কুড়িল, ঢাকা।
পরামর্শঃ আপনার মেয়ের সম্ভবত সাধারণ ঠান্ডাই লেগেছে। এ ধরনের সর্দি-কাশি এ সময় শিশুদের হতে পারে। এটা বড় কোনো সমস্যা নয়। তাই ভয়ের কিছু নেই। তবে শীতের সময় শিশুদের আলাদা যত্ন-আত্তি নেওয়া দরকার। আপনার শিশুর শরীরে জ্বর মেপে দেখুন। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। শিশুর অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য শিশুবিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। আপাতত নরসল বা এন্টাজল নাকের ড্রপ দু-এক ফোঁটা দিতে পারেন। বাচ্চাকে অবশ্যই সহনীয় মাত্রায় গরমপানিতে গোসল করাবেন। সব সময় গরম কাপড় পরিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে মাথায় টুপিও ব্যবহার করতে পারেন। কোনোভাবেই যেন ঠান্ডা যাতে না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঠান্ডা কোন খাবার খেতে দেবেন না। কাশির সঙ্গে ওর শ্বাসকষ্ট আছে কি না তা উল্লেখ করেননি। শ্বাসকষ্ট থাকলে ব্রডিল বা ভেনটলিন সিরাপ এক চামচ করে দিনে তিনবার খাওয়াতে পারেন। শ্বাসকষ্ট না থাকলে সিরাপ খাওয়ানোর দরকার নেই। প্রয়োজনে বুকের এক্সরে করতে হতে পারে। এখন যে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াচ্ছেন, এতে কাজ না হলে শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী তা বদলে নিতে পারেন।
পরামর্শ দিয়েছেনঃ অধ্যাপক ডা· মো· নুরুল ইসলাম
সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো

মন্তব্য করুন