শরীর চর্চার টুকিটাকি

খেলাধুলা ও শরীর গঠন অনেকের আগ্রহের বিষয়। খেলা ও ব্যায়ামের মধ্য দিয়ে শরীরের পেশি এবং হাড় শক্ত হয়। তবে আমাদের দেশে প্রায় সবাই নিজে নিজে ব্যায়াম করে। ব্যায়াম করার কিছু সাধারণ নিয়ম-কানুন আছে। সেগুলো মেনে চললে শরীর চর্চার লাভটা আরো বেশি এবং ভালো ফল পাওয়া যাবে।

*ব্যায়াম করার সময় অবশ্যই আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পরা ভালো।

*নিঃশ্বাস বন্ধ না করে ব্যায়াম করা উচিত। নিঃশ্বাস বন্ধ করে ব্যায়াম করলে শরীরের রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

*ব্যায়াম করার সময় দ্রুত বা তাড়াহুড়ো করে কোনো শারীরিক কসরত করা উচিত নয়।

*চারটি পেশির দিকে মনোযোগ দিন। এর চারটি এলাকা হচ্ছে পা, পিঠ, বুক ও হাত।

*বেশি ভারি যন্ত্র নিয়ে শুরম্নতেই ব্যায়াম উচিত নয়। প্রথম দিকে ফ্রি-হ্যান্ড মানে হাত-পা নাড়িয়ে ব্যায়াম করাই ভালো।

*মনে রাখতে হবে, ব্যায়াম করার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের পরিমাণ ঠিক রাখতে হবে যাতে ব্যায়াম করার পর শরীরে কোনো চাপ না পড়ে।

ব্যায়াম শুরু করলে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ জরুরি
শারীরিক কাজ করার সময় শরীরে জ্বালানি ক্ষয় হয় সেই জ্বালানি পূরণ করার জন্য কার্বহাইড্রেড জাতীয় খাবার দরকার। সাধারণত ক্রীড়াবিদ ও যারা শরীর চর্চা করে তাদের জন্য রুটি, সবজি ও ফল পরিমাণ মতো খাওয়া প্রয়োজন। এগুলো শরীরের পেশিতে প্রচুর শক্তি যোগায়। যদি কেউ শরীর চর্চা শুরু করে এবং যথেষ্ট পরিমাণ শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা গ্রহণ না করে তাহলে শরীর খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

প্রচুর পরিমাণ তরল গ্রহণ
খেলাধুলা ও শরীর চর্চার অনেক বেশি ফলাফল পেতে হলে শরীরে প্রচুর পরিমাণ তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। শরীর চর্চা বা খেলাধুলার সময় শরীর থেকে অনেক বেশি পরিমাণ পানি বের হয়ে যেতে পারে। আর তাতে মানুষ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে। কাজেই ব্যায়াম বা খেলাধুলা করার আগে, মাঝে ও শেষে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। ফ্রুট ড্রিংকস বা পানি পান ভালো। তবে তরল মানে অবশ্য মনে রাখতে মদ জাতীয় তরল নয়। খেলাধুলার দুই ঘণ্টা আগে ৪০০ থেকে ৬০০ মিলি লিটার পানি পান করা এবং খেলা বা ব্যায়ামের মধ্যে প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ৩৫০ মিলি লিটার পানি পান করা দরকার।

ব্যায়াম বা খেলার সময় অব্যশই পরিমিত আহার ও প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়া দরকার
কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দু-তিন ঘণ্টা আগে খাবার খাওয়া ভালো। তবে খেলোয়াড়ের পরিচিত খাবার খাওয়াই ভালো। তা না হলে সেই খাবার হজম হওয়া কষ্টকর হয়ে দাড়ায়। কারণ তা খেলাধুলার ওপর প্রভাব ফেলে।
খেলাধুলার বা ব্যায়াম করার পর ৩০ মিনিট পর কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। এমনকি যারা কোনো ভারি কাজ করে তাদের এক থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে কার্বোহাউড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

ব্যায়ামের সময় কার্বোহাউড্রেট, সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম বের হয়ে যায়। যার জন্য পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল ও সবজি খাওয়া প্রয়োজন। যেমন কলা, টমাটো, কমলা ও নানা দেশি ফল। সোডিয়ামের অভাব দূর করতে ফলগুলোকে হালকা লবণ দিয়ে খেলেই ব্যায়ামের সময় যে সোডিয়াম বের হয়ে গিয়েছিল তা পূরণ হয়ে যাবে।

রিডার ডাইজেস্ট থেকে বিজয় মজুমদার
উৎসঃ দৈনিক যায়যায়দিন, ২৮শে নভেম্বর ২০০৭

Article Tags: - - - - - - - - - - - -

Related Bangla Health Articles:


মন্তব্য করুন

All comments are subject to editorial review and decision.

Free Membership. Join Now!