সমস্যাঃ আমার বয়স ২১ বছর। উচ্চতা পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি। ওজন ৭৭ কেজি। গত বছর আমার ডায়াবেটিস (টাইপ-২) ধরা পড়ে। আমার মা-বাবা, চাচা-ফুফু, মামা-খালা সবারই ডায়াবেটিস আছে। দাদা-দাদি, নানা-নানির অবশ্য ডায়াবেটিস ছিল না বলেই শুনেছি। একজন চিকিৎসক আমাকে বলেছেন, আস্তে আস্তে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে। তিনি শরীরের ওজন কমানোর কথা বলেছেন। ডায়াবেটিস কি আসলে কখনো কমে? সারা জীবনই কি আমাকে এটি বয়ে বেড়াতে হবে? অল্প বয়সেই আমাকে এ ধরনের নিয়মের গণ্ডির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গেও আর মেলামেশা করতে ইচ্ছে করে না। মনে হয়, আমি তো তাদের মতো স্বাধীন নই। শুনেছি ডায়াবেটিস মানুষকে তাড়াতাড়ি বৃদ্ধ করে ফেলে আর নানা শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। আমার চোখে পাওয়ার আছে। চশমা পরি। স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য ডায়াবেটিস কি অন্তরায়? টেনশনে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না।
স্বপ্না
ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।
পরামর্শঃ আপনার বংশে অনেকেরই ডায়াবেটিস আছে। তা ছাড়া আপনার ওজন বেশি হওয়ায় এবং কায়িক শ্রম কম করার কারণে অল্প বয়সেই ডায়াবেটিস হয়েছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল কথাই হলো, সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করা। জীবনে উন্নতির জন্য সুশৃঙ্খল জীবন যাপন যেমন অপরিহার্য, তেমনি ডায়াবেটিস বা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্যও শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই।
শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়। নিয়ম মেনে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে সম্পূর্ণ সুস্থ লোকের মতোই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন। তাই খাওয়া-দাওয়ায় নিয়ম মেনে চলুন এবং কায়িক পরিশ্রম করুন। ঘরে বসে নিজে নিজেই রক্তের শর্করা পরীক্ষা করতে পারেন। ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন এবং তাঁর পরামর্শমতো চলুন। হতাশ হবেন না।
পরামর্শ দিয়েছেনঃ ডা· মো· ফারুক পাঠান
সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো।

মন্তব্য করুন